“আমার মৃত্যুর জন্য নিশান দায়ী”

প্রতিনিধি: “আমার মৃত্যুর জন্য নিশান দায়ী”। আমার জীবনটাকে সে তছনছ করে দিয়েছে। আমার মা-বাবা ও ভাইদের আশার উপর হাত দিয়েছে তাই নির্যাতন না সহ্য করতে পেরে আমি আত্মহত্যা করলাম। সবাইকে বলিও আমি কাউকে কিছু বলে থাকলে ক্ষমা করে দিতে। আমার মাকে বলো আমার জন্য দোয়া করতে। আল্লাহ তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও। এমনই হৃদয় বিদারকপত্র লিখে আত্মহত্যার মাধ্যমে দুনিয়া থেকে বিদাল নিলো নোয়াখালীর ৭ম শ্রেণীর মাদ্রাসার বিবি সাজেদা(১৮)।

পুলিশ বৃহস্পতিবার বিকালে সাজেদার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। নিহত সাজেদা বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের মধ্য নাজির পুর গ্রামের দুধ মিয়া বেগ বাড়ির জামাল বেগের কন্যা ও মধ্য নাজিরপুর আজিজিয়া ইসলামিয়া দাখিল মহিলা মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী।

জানা গেছে, সাজেদা মাদ্রাসায় যাওয়া আসার সময় প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতো একই এলাকার মধ্য নাজিরপুর গ্রামের লাল মিয়া বেগ বাড়ির আলী আহম্মদ হোরার ছেলে বখাটে নিশান (৩৩)। নিশান এক সন্তানের জনক। সাজেদার প্রতিবাদ করে অভিভাবকদের জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয় নিশান। বখাটে নিশান বৃহস্পতিবার সকালে সাজেদাকে ঘরে একা পেয়ে স্থানীয় মামুন ও ফারুকের সহযোগিতায় তাকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। এরপরেই সাজেদা চিঠি লিখে ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
খবর পেয়ে বিকালে বেগমগঞ্জ মডেল থানার এসআই শহিদ উল্যাহ নিহতের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এঘটনায় নিহত সাজেদার বাবা জামাল বেগ বাদি হয়ে নিশান ও তাদের দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। এলাকাবাসী ধর্ষক ও তাদের সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে। ভিকটিমের মা রৌশন আরা বেগম জানান, যারা আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে তাদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ফিরোজ আলম মোল্লা জানান, আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *