নোয়াখালীতে সড়ক দূর্ঘটনা ৯ দিনে নিহত ১০

ইয়াকুব নবী ইমন: নোয়াখালীতে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে সড়ক দূর্ঘটনা। জেলার সড়ক, মহাসড়কগুলো মৃত্যু দূতে পরিণত হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই জেলার কোথাও না কোথাও সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যু ঘটনা ঘটছে। গত ৯ দিনে জেলার বেগমগঞ্জ, সেনবাগ, সোনাইমুড়ী, চাটখিল ও হাতিয়া উপজেলায় দূর্ঘটনায় অন্তত ১০ নিহত ও অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছে। সব ছেয়ে বেশী দূঘটনায় প্রাণহানী ঘটেছে সোনাপুর-মাইজদী, চৌমুহনী-ফেনী আঞ্চলিক সড়কে। আর সড়কে প্রাণ ঝরে অনেকের পরিবার হচ্ছে নি:স্ব, অনেকে আহত হয়ে অকালে বরণ করছে পঙ্গুত্ব।
অদক্ষ ও মাদকসেবী চালক, ড্রাইভারদের প্রতিযোগীতা, ফিটনেস বিহীন গাড়ি, সরু সড়কসহ নানা কারণে এসব দূর্ঘটনা ঘটছে। সড়ক দূর্ঘটনা রোধে জেলা, উপজেলা প্রশাসন, ট্রাফিক বিভাগ, বিআরটিএ ও হাইওয়ে পুলিশ বিভিন্ন প্রদক্ষেপ গ্রহন করলেও কোন কাজে আসছেনা। এমতাবস্থায় সড়ক দূর্ঘটনা রোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছে ভূক্তভোগীরা।
জানা গেছে, গত ১৭ জানুয়ারী রাতে সেনবাগ উপজেলার মোহম্মদপুর ইউনিয়নে ট্রাকচাপায় জহিরুল ইসলাম কচি (৩০) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়। এ সময় আহত হয় মোটরসাইকেলের আরো দুই আরোহী।
গত ১৬ জানুয়ারী রাতে বেগমগঞ্জ উপজেলার নোয়াখালী-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কের জমিদারহাট সংলগ্ন বড় পোল এলাকায় সুগন্ধা দ্রুতযান সার্ভিসের যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রন হারিয়ে পাশ্ববর্তি খালে পড়ে ঘটনাস্থলে জন ও হাসপাতালে নেয়ার পর আরো ২ জন নিহত হয়। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়।
গত ১৩ জানুয়ারী দুপুরে হাতিয়া উপজেলার ওছখালী-তমরদ্দি সড়কের খবির মিয়া নামক স্থানে যাত্রীবাহী জীপগাড়ি ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ২ মোটরসাইকেল আরোহী ও ১ জীপযাত্রী নিহত হয়। এ সময় আহত হয় আরও ১০ জন।
গত ১১ জানুয়ারী রাতে চাটখিল থানা এলাকায় পিকআপভ্যানের ধাক্কায় এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়।
গত ৭ জানুয়ারী দুপুরে সোনাইমুড়ি-ছাতারপাইয়া সড়কের বিজয়নগর এলাকায় পিকআপভ্যান চাপায় হাসিনা বেগম (৫৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন।
সড়ক দূর্ঘটনা বৃদ্ধির কারণ জানতে নোয়াখালী জেলা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর(প্রশাসন) সাখাওয়াত হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, নানা কারণে সড়ক দূর্ঘটনা ঘটে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আঞ্চলিক সড়ক-মহাসড়কগুলোতে দ্রুতগতির যানবাহনের পাশাপাশি স্বল্প গতির যানবাহন চলাচল করা। সড়ক-মহা সড়ক থেকে স্বল গতির যানবাহন তুলে দিলে সড়ক দূর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে। আমাদের ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকেও দূর্ঘটনা রোধে সভা, সেমিনার ও প্রশিক্ষনের মাধ্যমে ড্রাইভারদের সচেতনার চেষ্টা চলছে।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *