নোয়াখালীতে বেড়েছে গণধর্ষণের ঘটনা

জাতীয় নিশান রিপোর্ট: বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের জেলা নোয়াখালীতে বেড়েছে গণধর্ষণসহ ধর্ষণের ঘটনা। গত ৩০ ডিসেম্বর রাতে সুবর্নচরে দেশব্যাপী আলোচিত চার সন্তানের জননীকে গণধর্ষণের ঘটনার রেষ না কাটতেই এবার কবিরহাটে তিন সন্তানের জননীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে চলতি বছরের গত ২০ দিনে জেলায় ৩টি গণধর্ষণসহ ৪টি ধর্ষনের ঘটনা ঘটেছে। এমন গণধর্ষণের ঘটনায় জেলাব্যাপী চলছে তোলপাড়। দোষিদের বিচারের দাবীতে উত্তাল হয়ে উঠেছে নোয়াখালী। বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে মানববন্ধন, সভা সমাবেশের। এদিকে প্রতিটি ধর্ষনের ঘটনাই পুলিশের বিরুদ্ধে দায়ীত্বে অবহেলা ও গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশ বলছে তারা সব ঘটনাই গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে।
সর্বশেষ গণধর্ষনের শিকার কবিরহাটের ধানসিড়ি ইউনিয়নের নবগ্রামের তিন সন্তানের জননী ওই নারীর স্বামীকে গত ২৩ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে পুলিশ তুলে নিয়ে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেল হাজতে পাঠায়। ঘটনার সময় শুক্রবার রাতে ঘরে ওই নারী, তার ও তিন সন্তান নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলো। মধ্যরাতে ঘরের সীঁধ কেটে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাতজন দূবৃত্ত ঘরে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে চারজনের মুখ বাঁধা ও তিনজনের মুখ খোলা ছিল। তারা ঘরে ঢুকে প্রথমে থানা থেকে এসেছে বলে তার স্বামীকে খুজতে থাকে। পরে পরিবারের সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তিনজন ওই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। তারা যাওয়ার সময় ঘরে থাকা নগদ ৬০ হাজার টাকা ও মূল্যবার জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। পরের শনিবার দুপুরে খবর পেয়ে কবিরহাট থানা পুলিশ নির্যাতিত ওই গৃহবধুকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
দোষিদের বিচারের দাবীতে উত্তাল হয়ে উঠেছে নোয়াখালী। এলাকাবাসী ধর্ষকদের ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন, সভা সমাবেশ করেছে এবং দায়ীত্ব অবহেলা ও গাফিলতির জন্য এবং অভিযুক্তদের বাঁচানোর চেষ্টা করার অভিযোগে কবিরহাট থানার ওসি মির্জা হাসানকে প্রত্যাহারের দাবী জানিয়েছে স্থানীয়রা।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে গণধর্ষণের ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে বলে দাবী করে কবিরহাট থানার ওসি মির্জা হাসান জানান, এ ঘটনায় মুলহোতা জহিরসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জহির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তার স্বীকারোক্তি মতেই অন্য অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এদিকে গণধর্ষণের ঘটনার সাথে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের নাম উঠে আসায় বেকাদায় পড়েছে কবিরহাট উপজেলা আওয়ামীলীগ। যারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে তারা অপরাধী উল্লেখ করে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক রায়হান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞতিতে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করা হয়। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা ফজলে রাব্বানী জানান, গণধর্ষণের শিকার ওই নারীর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। তার চিবিৎসায় দুই সদস্য বিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড ঘটন করা হয়েছে।
এর আগে সুবর্নচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের চরবা¹ায় ৪ সন্তানের জননী(৪০), হাতিয়ার উপজেলার চরইশ্বর ইউনিয়নের পুর্ব লক্ষ্মীদিয়া গ্রামের কিশোরীকে (১৬) গণধর্ষণ, হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটে স্কুল ছাত্রী(১২) ধর্ষণের শিকার হয়েছে।
এদিকে নোয়াখালী বর্তমানে একটি ভিআইপি জেলা হিসেবে পরিচিত। এখনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরীসহ ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের অনেক প্রভাবশালীর নেতার বাড়ি। এবার গণধর্ষণের ঘটনাটি ঘটলো খোদ সেতুমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক একরাম চৌধুরীর নিজ বাড়ি কবিরহাটে। যেখানকার উপজেলা চেয়ারম্যান একরাম চৌধুরীর স্ত্রী শিউলি একরাম ও পৌর মেয়র ভাগিনা জহিরুল হক রায়হান। এমন গণধর্ষণের ঘটনায় বিব্রত তারা।
সুবর্নচরে গণধর্ষণের ঘটনার পর সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছেন, অপরাধী যেই হোক ছাড় দেয়া হবেনা। কিন্তু বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। স্থানীয় নেতাদের চাপের মুখে পুলিশ ঠিক মতো তাদের দায়ীত্ব পালন করতে পারছেনা বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তবে নোয়াখালী পুলিশ সুপার ইলিয়াছ শরীফ বলেন, অপরাধী কোন দল করে সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। আমরা অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনতে চেষ্টা করছি। এ ঘটনায় কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা বলেও তিনি হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *