
জাতীয় নিশান প্রতিবেদক: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ২৪ ডিসেম্বর উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের ঘাটলা গ্রামের (৩ নং ওয়ার্ড) মিন্নাত আলী আপ্তার বাপের বাড়িতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত মজিবুল হকের পরিবারের উপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের ৬ জন আহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ হামলাকারী রাজুকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার পর সন্ত্রাসীদের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে মুক্তিযুদ্ধার পরিবার।
জানা গেছে, পূর্ব বিরোধের জেরে গত ২৪ ডিসেম্বর সকালে একই বাড়ির মৃত রফিক উল্যাহ পুত্র রাজু, তার ভাই আরমান, তার বোন মুন্নি বেগম, মনি বেগম ও মা তাহেরা বেগম একজোট হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুল হকের পরিবারের উপর হামলা করে। এ সময় তারা পিটিয়ে ও কুপিয়ে মুক্তিযুদ্ধার স্ত্রী নুর জাহান বেগম, পুত্র ইসমাইল হোসেন দুলাল, পুত্র বধু বিবি হাজরা, নাতি মাহবুবের স্ত্রী তাছলিমা বেগম, নাতিন আলো ও সুমাইয়াকে আহত করে। হামলার সময় সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের ভয়ে স্থানীয়রা এগিয়ে আসার সাহস পায়নি। পরবর্তিতে আহতরা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশের এ.এস.আই একরামুল হক ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধার পুত্র আহত পুত্র ইসমাইল হোসেন বাদি হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় মামলা করলে (যার নং-২৭, তাং-২৬-১২-২০২৫ইং) পুলিশ প্রধান আসামী রাজুকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায়। এদিকে রাজুকে গ্রেফতার করার হামলাকারীরা আরো বেপরোয়া হয়ে মুক্তিযুদ্ধার পরিবারকে নানা ভাবে হুমকি দিচ্ছে। ফলে তারা নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
মুক্তিযোদ্ধার পুত্র ইসমাইল হোসেন জানান, তারা দীর্ঘদিন থেকে আমাদেরকে অত্যাচার করে আসছে। এলাকার মানুষও তাদের কাছে জিম্মি। তারা এলাকায় জুয়া, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে আসছে। তারা স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বারদেরও মানেনা।
তবে মামলা ও ১ নং আসামী গ্রেফতার হওয়ার পর অভিযুক্ত অন্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তাই তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস.আই ইশ্রাফিল জানান, মামলার তদন্ত কাযক্রম চলমান। আসামী একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।