
কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি : নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ইউনিট ম্যানেজার বিবি জহুরা ঐশীকে (২৮) হত্যার অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তাঁর ভাই মোঃ কামাল উদ্দিন। মামলার আসামিরা হলেন- প্রতিষ্ঠানটির সাবেক আইটি কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন, তাঁর বাবা জসিম উদ্দিন ও ভাই রিয়াজ উদ্দিন। গিয়াস উদ্দিন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিবি জহুরা ঐশী বসুরহাট শাখায় ইউনিট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে বীমার প্রিমিয়ামের টাকা সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ প্রতিষ্ঠানের আইটি কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিনের কাছে জমা দিতেন। কয়েক মাস ধরে প্রিমিয়ামের টাকা ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের হিসাব নিয়ে গরমিল দেখা দিলে তাঁদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ঐশী।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই বিরোধের জেরে ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় গিয়াস উদ্দিন, তাঁর বাবা জসিম উদ্দিন ও ভাই রিয়াজ উদ্দিন বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কিবরিয়া মঞ্জিলে ঐশীর ভাড়া বাসায় যান। সেখানে তাঁরা ঐশীর ওপর হামলা চালান। এতে ঐশী গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।পরে পুলিশ তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় ঐশীর ভাই মোঃ কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি কোম্পানীগঞ্জ থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মামলার প্রধান আসামি গিয়াস উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজীম ঐশীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।