সংরক্ষিত নারী আসন: বিএনপির মনোনয়ন চান ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী
আপডেট সময় :
বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬
49 পাঠক
জাতীয় নিশান প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। এবার আলোচনার কেন্দ্রে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন। ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রমজান মাসেই হবে বলে আভাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাই মনোনয়ন পেতে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেত্রীরা।
নোয়াখালী থেকে সংরক্ষিত নারী আসনেও মনোনয়ন পেতে চেষ্টা করছেন একাধিক নেত্রী। নোয়াখালী থেকে কে হবেন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য? শেষ পর্যন্ত কে বিএনপির মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন এ নিয়ে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নেতাকর্মী সমর্থক ও সাধারন মানুষের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় মনোনয়নের লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছেন এ অঞ্চলের বিএনপি নেত্রী ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী।
বিএনপি পরিবারের সন্তান ফৌজিয়া সাফদার সোহেলীর জন্ম নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায়। তিনি হাতিয়া উপজেলার প্রখ্যাত জমিদার ও দানবীর আলহাজ্ব আজহার উদ্দিন মিয়ার বংশধর এবং আলাউদ্দিন খিলজির জ্যেষ্ঠ কন্যা। জড়িত আছেন নানা সামাজিক উন্নয়ন ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডে।
তিনি মনোনয়ন পেতে তৃনমুল থেকে কেন্দ্রে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সামাজিক কর্মকান্ড, ও রাজনৈতিক কর্মসুচির মাধ্যমে নোয়াখালী জেলায় আলোচনায় এসেছেন এই নারী নেত্রী। স্থানীয় বিএনপি ও নোয়াখালী জেলা বাসীর প্রত্যাশা, সাধারন মানুষের সুঃখে দুঃখে থাকা সামাজিক,রাজনৈতিক ও মানবিক গুণে গুণান্বিত ফৌজিয়া সাফদার সোহেলীকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চায় নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষ ।
প্রতিকূল দ্বীপাঞ্চলে জন্ম নেওয়া ফৌজিয়া সাফদার সোহেলীর শৈশব কেটেছে নদীভাঙন, বঞ্চনা ও সংগ্রামের বাস্তবতার ভেতর দিয়ে। পারিবারিক ঐতিহ্য তাকে মানব সেবার শিক্ষা দিয়েছে, আর সময় তাকে শিখিয়েছে সাহস ও দায়িত্ববোধ। শিক্ষা জীবনে তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রতিকূলতার মাঝেও অদম্য অগ্রযাত্রা হাতিয়ার আফাজিয়া স্কুল থেকে এসএসসি সম্পন্ন করে তিনি উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যান। হাতিয়া দ্বীপ কলেজ থেকে স্নাতক (বি.এ) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে আইডিয়াল ল’ কলেজে আইন বিষয়ে অধ্যয়ন শুরু করেন। ব্যক্তিগত ও সামাজিক দায়িত্বের ভারে আইন শিক্ষা সম্পন্ন করা হয়নি দ্বীপাঞ্চল হাতিয়া সংগঠনের সমন্বয়ক হিসেবে তিনি সহযোদ্ধাদের নিয়ে তহবিল গঠন করেন। তার উদ্যোগে অসহায় অনেক পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ করা হয় যা শুধু আশ্রয় নয়,ছিল নতুন জীবনের প্রতিশ্রুতি।এছাড়াও নিয়মিত শিক্ষা বৃত্তি প্রদান চিকিৎসা সহায়তা তহবিল মসজিদ ও মাদ্রাসায় অনুদান সামাজিক ও দুর্যোগকালীন সহায়তা করেছেন।
শৈশব থেকেই তিনি দেখেছেন দারিদ্র্য, অসহায়ত্ব আর চিকিৎসাহীনতার কষ্ট। তাই খুব অল্প বয়সেই নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন মানবিক কর্মকাণ্ডে। অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ ও বই-খাতা প্রদান দরিদ্র পরিবারের খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা। সব সময়ই চেষ্টা করেন অসচ্ছল শিক্ষার্থী, দরিদ্র পরিবার ও অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে।
শত শত রোগীকে তিনি ঢাকায় এনে নিজ বাসায় আশ্রয় দিয়েছেন। চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া, অপারেশনের জন্য তহবিল সংগ্রহ, ওষুধের ব্যবস্থা সবকিছুই করেছেন নীরবে, প্রচারবিমুখ থেকে।
স্বৈরাচারী সময়েও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি রাজপথ সক্রিয় ছিলেন । অন্যায়, দমন-পীড়ন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার অবস্থান ছিল স্পষ্ট ও দৃঢ়। সত্যের পক্ষে কথা বলার অপরাধে তিনি হয়েছেন মামলা, হামলা ও সামাজিক নিপীড়নের শিকার। বারবার ভয় দেখানো হয়েছে, তবুও তিনি থেমে যাননি। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ঢাকার শান্তিনগরে তার বাসভবন দক্ষিণাঞ্চলের স্বেচ্ছাসেবক দলের অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। মামলা, ভয়ভীতি ও নিপীড়নের মুখেও পিছু হটেননি। পুলিশি তল্লাশি, নজরদারি ও চাপ সবকিছুর মাঝেও তিনি আশ্রয় দিয়েছেন নেতা-কর্মীদের।
প্রতিকূল দ্বীপাঞ্চল থেকে উঠে এসে মানুষের অধিকার, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। মানবতা, সাহসিকতা ও ত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তিনি স্থানীয় মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।
সমাজের অবহেলিত ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষের উন্নয়নে কাজ করতে চান তিনি। ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী শিক্ষা,সংস্কৃতিক ও নারী উন্নয়নে ভূমিকা রেখে আসছেন। এজন্য তাকে নোয়াখালী থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হিসেবে দেখতে চান এ অঞ্চলের মানুষ।
মনোনয়ন প্রসঙ্গে নোয়াখালী থেকে সংরক্ষিত সংসদ সদস্য প্রত্যাশি ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী বলেন , জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলকে বিজয়ী করতে নিরলসভাবে কাজ করেছি। ভুমিকা রেখেছি তৃনমুল পর্যায়ে দলের বার্তা পৌছে দিতে। আমার দলের প্রতি আস্থা রেখে মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা করছি। সক্রিয় রাজনীতির মাধ্যমে মানুষের কল্যান,সমাজ সেবা ও উন্নয়ন কর্মকান্ডে ভুমিকা রাখার অংশ হিসেবেই আমি দলীয় মনোনয়ন চাই।
সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কাজে নিয়জিত থাকতে চাই। জাতীয়তাবাদী আদর্শ নিয়ে কাজ করে চলেছি। আমি চাই সবসময় মানুষের পাশে থেকে জনগণের সেবা করতে। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে সুদূরপ্রসারী চিন্তা, বিচক্ষণতা, জনসেবা ও নেতৃত্ব প্রদানের যোগ্যতা থাকতে হবে। আমি বিশ্বাস করি আমাদের বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিচক্ষণতার সঙ্গে দলের সাম্যবস্থা রক্ষা করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের সব আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে ছিলাম। তাই সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হিসেবে কাজ করার সুযোগ চাই। আমার বিশ্বাস নবনির্বাচিত প্রধান মন্ত্রী বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসেবে মনোনয়ন দেবেন।