প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ২২, ২০২৬, ৫:৩৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ২১, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য চৌমুহনী, সর্বত্র আতঙ্ক

জাতীয় নিশান প্রতিবেদক:
অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে হয়ে উঠছে বৃহত্তর নোয়াখালীর প্রধান বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনী। চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, জবর-দখল, কিশোর গ্যাং এর উৎপাত , গোলাগোলি এখানে নিত্য ঘটনা। এতে আতঙ্ক বিরাজ করছে সর্বত্র।
অনেক দিন থেকে শহরের আবাসিক হোটেলগুলোতে চলছে নারী দেহ ব্যবসা চলছে। শুধু হোটেলে অসামাজিক কর্মকাণ্ডই নয়, মাদক ব্যবসায়ীদের মাদক আনা-নেওয়া ও অস্ত্র লেনদেন, চোরাচালানের নিরাপদ আস্তানা এখন চৌমুহনী। বিশেষ করে আবাসিক হোটেলগুলো অপরাধীদের কাছে উঠছে নিরাপদ স্থান। এখানে প্রতিদিনই বসে জুয়া, মদ, গাাঁজা, হেরোইন ও ইয়াবাখোরদের আসর। কেউ কেউ গভীর রাতে শহরের অলিতে গলিতে করে মাতলামি। কিশোর গ্যাং এর দৌরাত্বে অনেকটা দিশেহারা স্থানীয়রা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কয়েকবার অভিযান চালিয়ে এসব হোটেল থেকে পতিতা সহখদ্দের আটক করে। অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়। তবুও কোনভাবে এসব অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। সব মিলিয়ে অনেকটা অসহায় জীবণ যাপন করছে চৌমুহনী শহরের মানুষ। এ সব অপরাধীরা রয়েছে রাঘববোয়ালদের সেল্টারে। ফলে প্রশাসনও অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছে তাদের কাছে। কিন্তু এ ভাবে চলতে থাকলে এক সময় চৌমুহনী শহরে বসবাস অনুপযোগি হয়ে পড়বে বলে মনে করছে সচেতন মহল।
সূত্র বলছে, চৌহমুনী বাজারের আবাসিক হোটেলগুলো এখন ভয়ঙ্কর অন্ধকার জগতের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। অবাধে দেহব্যবসা, মাদক কারবার, মানুষকে জিম্মি বানিয়ে অর্থ আদায়, প্রতারণাসহ সব মিলিয়ে এই হোটেলগুলো অপরাধচক্রের নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও মূল হোতারা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন ও সরবরাহ এখানে স্বাভাবিক ব্যাপার। হোটেলগুলোর সঙ্গে জড়িত রয়েছে একটি শক্তিশালী নারী সরবরাহকারী ও মাদক সিন্ডিকেট। হোটেলের আশপাশেই এদের তৎপরতা স্পষ্ট। ঢাকার টান বাজার বা দৌলতদিয়া পতিতা পল্লীর মতো এখন চৌমুহনী শহরেও প্রকাশ্যে পতিতারা খদ্দের ডাকতে দেখা যায়। যা স্বাধীনতা উত্তর এই শহরে কখনো দেখা যায়নি। এ সব কার্যক্রম পরিচালনায় শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট। সচেতন মহল মনে করেন, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, অভিযানে আটককৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতার মাধ্যমে এ ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ করা সম্ভব।
চৌমুহনী শহরের একাধিক বাসিন্ধা জানান, দিন দিন অনিরাপদ ও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে চৌমুহনী। নির্দেশনা থাকলেও আবাসিক হোটেলগুলোতে আগত বোর্ডারদের তথ্যও নথিভুক্ত করা হচ্ছে না রেজিস্ট্রারে। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় বছরের পর বছর ধরে এই বেআইনি কর্মকাণ্ড চলছে নির্ভয়ে ও প্রকাশ্যে। হোটেলগুলোতে দিনে রাতে বিভিন্ন স্কুল, কলেজে পড়ুয়া ছেলে মেয়েদেরও যাতায়াত করতে দেখা যায়। যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে চরম ভাবে অন্ধাকারে ঠেলে দিচ্ছে। যে সব মার্কেটে আবাসাকি হোটেল রয়েছে সেগুলোতে কোন ভদ্র মানুষ বাজার করতে যেতে ইতস্ত বোধ করেন। মান-সম্মানের ভয়ে মার্কেটগুলোর অনেক দোকাদার ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার চিন্তা ভাবনা করছে। স্থানীয়দের দাবির পেক্ষিতে মাঝে মধ্যে প্রশাসন অভিযান চালালেও কোন ফল হচ্ছেনা। অপরাধীরা জামিনে এসে আবারও অপরাধে জড়াচ্ছে। চৌমুহনী শহরের গনিপুর, করিমপুর, দক্ষিণ বাজার, কলেজ রোড, পূর্ব বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক কিশোর গ্যাং সক্রিয়। তারা বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত।
সচেতন মহল বলছে, চৌমুহনীতে তেমন কোন পর্যটন কেন্দ্র নেই। তবুও কেন এতোগুলো আবাসিক হোটেলের অনুমতি এখানে দেওয়া হয়েছে তাও বোধগম্য নয় শহরবাসীর। তাই চৌমুহনী শহরের আবাসিক হোটেলগুলোকে নিয়ন্ত্রনে আনা, সন্ত্রাস-কিশোর গ্যাং, মাদক, ইভটিজিং বিরোধী অভিযান জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।
সচেতন মহল বলছেন, চৌমুহনী দেশের একটি গুরুত্বপূর্ন শহর। প্রতিদিন দুর-দুরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ এই শহরে আসেন নানা কাজে। এটি নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয়ং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্যাহ বুলুর নির্বাচনী এলাকা। তিনি ইতিমধ্যে মাদক, কিশোর গ্যাং, দখলবাজ, চাঁদাবাজীসহ সব রকমের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাই চৌমুহনী শহরকে বাঁচাতে তিনি প্রদক্ষেন দিবেন বলে আশা শহরবাসীর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনকে ম্যানেজ করা ছাড়া এভাবে প্রকাশ্যে আবাসিক হোটেলে নারী দেহ ব্যবসা সম্ভব নয়। তাই এ বিষয়ে প্রশাসনের উপর মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছে চৌমুহনী পৌরবাসী।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি মো. শামসুজ্জামান বলেন, নোয়াখালী ডিবি ও বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কয়েকবার অভিযান করে অনেককে আটক করা হয়েছে। পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সহসাই আরো অভিযান চালানো হবে।
সম্পাদক: ইয়াকুব নবী ইমন, মোবাইল: : ০১৭১২৫৯৩২৫৪, ইমেইল-: jatiyanishan@gmail.com, IT Support: Trust Soft BD
Copyright © 2026 দৈনিক জাতীয় নিশান. All rights reserved.