
জাতীয় নিশান প্রতিবেদক:
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নোয়াখালী-১ (সোনাইমুড়ী-চাটখিল) আসনের জমজমাট হয়ে উঠেছে মাঠের রাজনীতি। এ আসনে বিএনপি, জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী, ইনসানিয়াত বিপ্লব, বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টি, জাতীয় পাটি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থীরা সভা, সমাবেশ, উঠান বৈঠক, মিছিল ও গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটের এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন। ৭ জন প্রার্থীই নানা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ভোটারদের মন জয় করার চেস্টা করছেন।
এ আসনে ধানের শীষ প্রতিকের বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। সাবেক এই এমপি এলাকায় বেশ জনপ্রিয়। বিগত দিনে দলের জন্য একনিষ্ঠ ভাবে কাজ করায় বার বার এই আসনে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনকে দল মূল্যায়ন করছে। তিনি নির্বাচনি মাঠ আগেই ঘুচিয়ে রেখেছেন। মাহবুব উদ্দিন খোকন ২০০৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে নোয়াখালী-১ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনী বিএনপি থেকে প্রার্থী হলেও হামলা চালিয়ে, গুলি করে তাকে আহত করে জয় চিনিয়ে নেয় আওয়ামীলীগের প্রার্থী এ এইচ এম ইব্রাহিম। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি হলেও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এমপি নির্বাচিত হলে বিগত দিনের মতো এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে জেলা জামায়াতে ইসলামীর মজলিসে শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা ছাইফ উল্লাহ এই আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনি বিভিন্ন এলাকায়। তিনি বিগত দিনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্যাতনের শিকার পরীক্ষিত একজন নেতা। তৃণমূলে রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। নির্বাচিত হলে মাদক, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও অশ্লীলতামুক্ত সমাজ গঠন, জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা, ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও ন্যায়নিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রকিষ্ঠায় কাজ করবেন বলে জানান মাওলানা ছাইফ উল্লাহ।
এই আসনে নতুন মুখ ইসলামী আন্দোলনের হাত পাখা প্রতিকের প্রার্থী জহিরুল ইসলাম। নানা প্রকার সামাজিক কর্মকান্ডের মাধ্যতে তিনি এখন নোয়াখালী-১ আসনে আলোচিত প্রার্থী। সরাসরি রাজনীতির সাথে জড়িত না হলেও আগে থেকেই এলাকায় জহিরুল ইসলাম বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কাজের মাধ্যমে এলাকার মানুষের মাঝে মিশে গেছেন। ভোটারদের মধ্যে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তিনিও সভা, সমাবেশের মাধ্যমে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেস্টা করছেন। নির্বাচিত হলে চাটখিল-সোনাইমুড়ী উপজেলার স্বাস্থ্য, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করবেন বলে জানান জহিরুল ইসলাম।
এছাড়াও ইনসানিয়াত বিপ্লবের মশিউর রহমান আপেল প্রতিক নিয়ে, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মমিনুল ইসলাম ডাব প্রতিক নিয়ে, জাতীয় পার্টির নুরুল আমিন লাঙ্গল, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) রেহানা বেগম তারা প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিএনপি ও জামায়াত অধ্যুষিত আসনটিতে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় ভোটের অংক মিলানো মুশকিল। এখানে মূলত বিএনপি-জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখি ভোট যুদ্ধ হবার সম্ভাবনা রয়েছে । এ ক্ষেত্রে ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে প্রবাসীদের পোস্টাল ভোট ও নারী ভোটাররা। তাদের সমর্থন যে দিকে যাবে ভোটের পাল্লা ভারী হবে সে দিকেই।
তবে একাধিক ভোটার জানান, যিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন, সুখে-দু:খে থাকবেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক নির্মূলে কাজ করবেন আমরা তাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচত করবো। নোয়াখালী-১ আসনে মোট ভোটার ৩,৮৯,৩২৫ জন, এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৯৯,৪০১ ও নারী ভোটার ১,৮৯,৯২৪ জন।