
জাতীয় নিশান প্রতিবেদক:
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলর কাদিরপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড এর ঘাটলা গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী বেলালের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বিজলীর পরকিয়ায় তছনছ হয়ে গেছে পরিবার। বিজলীর পরকিয়ায় বাঁধা দেওয়ায় তার পরকিয়া প্রেমিকের লোকজনের হামলায় প্রবাসীর মা ও ভাইসহ ৪ জন আহত হয়। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচারের দাবীতে ভূক্তভোগীর প্রবাসীর পরিবারের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। চৌমুহনী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী বেলালের বড় ভাই আনোয়ার হোসেন জানান, বিগত ৯ জুন ২০২৫ইং তারিখ সোমবার আমার ছোট ভাই সৌদি প্রবাসী মো: বেলাল হোসেনের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বিজলী বাপের বাড়ী বেড়ানোর উদ্দেশ্য রওয়ানা হয় । বিকালে তার বাপের বাড়ী গিয়ে পৌছ হয়েছে কিনা জানার জন্য ফোন করলে তারা আমাদের জানায় সে তাদের বাড়িতে যায়নি। আমরা তাহার বাপের বাড়ি ইয়ারপুর গিয়ে খোঁজ খবর না পেয়ে তার মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। কিন্তু মোবাইল নাম্বার বন্ধ পাওয়ায় আমরা চিন্তিত হয়ে পড়ি। আমরা সন্দেহজনক ভাবে বিজলীর পরকিয়া প্রেমিক ইব্রাহিম হোসেন হৃদয়ের মা-বাবাকে জিজ্ঞেস করলে তারা অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করে এবং আমাদের মার-ধরের জন্য এগিয়ে আসে ।
পরবর্তীতে জানতে পারি বিজলী বাপের বাড়ি না গিয়ে তার নতুন প্রেমিক মো: ইব্রাহিম হোসেন হৃদয়ের সাথে পালিয়ে যায়। ১১ জুন-২০২৫ ইং রোজ : বুধবার তারা সিলেটের শ্রীমঙ্গলে হৃদয়ের ফুফুর বাড়িতে থেকে কাজী অফিসে তাহমিনা আক্তার বিজলীকে ৪ লক্ষ টাকা দেনমোহর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তার প্রবাসী স্বামীকে তালাক না দিয়ে স্বামীর টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার সবই আত্মাসাৎ করে নতুন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। (উল্লেখ্য, তাহমিনা আক্তার বিজলী ও হৃদয় সম্পর্কে চাচী-ভাতিজা হয় এবং বিজলীর ১টা কন্যা সন্তান আছে ২.৫ বছরের)। এর মধ্যে তাদের কোন রকম খোঁজ খবর পাওয়া যায়নি, ২ মাস অতিবাহিত হয়ে যায়। গত ২৬ জুলাই-২০২৫ ইং রোজ : শুক্রবার ইব্রাহিম হোসেন হৃদয় নিজ বাড়িতে ফিরে আসে তার সিলেটের দাদী সহকারে এবং তার মা-বাবা বলে হৃদয় চাকরি করার জন্য ঢাকায় গিয়েছে । গত ০৪ আগস্ট-২০২৫ ইং রোজ সোমবার তাহমিনা আক্তার বিজলী হৃদয় ও তার পরিবারের সহযোগিতায় আমাদের বাড়িতে এসে তার বাচ্চার দেখার নাম করে আমাদের পরিবারে প্রবেশের চেষ্টা করে। এতে আমাদের পরিবারের লোকজন বাধা দিলে সে শোর-চিৎকার করে বাড়ির লোকজন জড়ো করে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। সে কোন রকম বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়নি মর্মে স্বীকারোক্তি দেন অথচ সে ১১ই জুন শ্রীমঙ্গলে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। স্থানীয় মেম্বার ও লোকজন তার সাথে হৃদয়ের বিয়ে হয়েছে কিনা জানতে চাইলে সে অস্বীকৃতি জানায়। এতে হৃদয় ও তার পিতা ফারুক হোসেন মারমুখী হয়ে আমাদের পরিবারের দিকে এগিয়ে আসে। তখন উপস্থিত মান্যগন্য ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় বিজলীকে তার বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরদিন বিজলী আবার আমাদের বাড়িতে এসে হৃদয়ের ঘরে অবস্থান করে। তারপর হৃদয়ের পরিবার বিজলীকে বৌ হিসেবে ঘরে তুলে নেয়। অন্য ঘরের চাচী হৃদয়ের কি হিসেবে বৌ হয় তা জানতে চাইলে স্থানীয় মেম্বারকে হৃদয় বিয়ের কাবিননামা প্রদর্শন করে ।
এই ঘটনাটুকু হৃদয়ের পরিবার ও দাদা-দাদী এবং তাদের প্রতিবেশী সবাই জানতো কিন্তু আমাদের কোন তথ্য দেয়নি। বরং আমরা তাদের নামে বদনাম করছি মর্মে সমাজে আমাদের ছোট করার চেষ্টা করে। তারা দোকান-পাটে বসে আমাদের অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করে এবং অহংকার করে বলে তারা আমাদের একটা পশমও ছিঁড়তে পারেনি। মান-সম্মান অন্যান্য দিক বিবেচনা করে এখন পর্যন্ত আমরা তাদের সাথে কোন রকম খারাপ আচরণ বা ঝগড়া-ফ্যাসাদে লিপ্ত হয়নি। তারা অপরাধ করে আমাদের পরিবারকে বার বার হেনস্তা করার চেষ্টা করছে। আমাদের পরিবারের মান-সম্মান নিয়ে যে দুঃসাহস দেখিয়েছে তার একটা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করছি। বর্তমানে তারা সমাজের মধ্যে যে রকম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে সে কারণে সমাজের অন্যান্য পরিবারবর্গ নিয়ে বসবাসের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে এবং সকল পরিবারগুলো শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তার একটা স্থায়ী বিহীত ব্যবস্থার সিদ্ধান্তে সমাজের মুরুব্বী ও পরিবারগুলোর সম্মান রক্ষার্থে বিজলী ও হৃদয়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করছি। যেহেতু একই জায়গায় অপরাধ সংঘটিত হওয়ার কারণে তারা অপরাধী সেহেতু একই জায়গায় তারা অবস্থান করতে পারবে না। কারণ ভাবী হয়ে গেলো পুত্রবধু, চাচী হয়ে গেলো নিজের বৌ, মা হয়ে গেলো ভাবী এ অবস্থায় হৃদয় দম্পতি এ বাড়িতে বসবাসের অনুপোযোগী। হৃদয় দম্পতি এ বাড়িতে থাকলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে ।
এমতাবস্থায় যেহেতু বিজলী পূর্বে পাশের ঘরের বৌ ছিলো সেহেতু একই বাড়িতে তাদের বসবাস কোন ভাবেই কাম্য নয়। বিজলী ও হৃদয় দম্পতি এ বাড়িতে কোনভাবেই বসবাসের উপযুক্ত নয়। এ বিষয়টি নিয়ে ১৬ নং কাদিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিনের শরণাপণা হলে তিনি সামাজিকভাবে বসে সমাধানের আশ্বাস দেন। আমরা সামাজিকভাবে সমাধানের সিদ্ধান্ত নিলে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ নিজের চরিত্র টাকার কাছে বিক্রি করে বিষয়টি সমাধানে অনিহা জানায়।
প্রবাসী বেললের পরিবারের সদস্য আনোয়ার হোসেন আরো জানান, গত ১-৯-২০২৫ ইং তারিখে দুপুর বেলায় আমার মা পুকুরে গোসল করতে যায়। সেখানে আমার ভাজিতি আলিফাকে গোসল করানোর জন্য নিয়ে। গোসল করতে দেরী হওয়ায় সে কেঁদে উঠে। কান্নার আওয়াজ শুনে গোসল ঘাটের পূর্ব থেকে চলে যাওয়া বউ বিজলী আমার মাকে উদ্দেশ্যে করে গালী-গালাজ শুরু করে এবং বাচ্চা কত দিন আটকিয়ে রাখবি মর্মে বাচ্চাকে গালিগালাজ করে। পরিবারের অন্যান্য ব্যক্তি নিয়ে অশালীন ভাষায় অকথ্য গালী গালাজ করে। এ ঝগড়া সন্ধ্যা পর্যন্ত চলতে থাকে। বিষয়টি আমার মা আমাকে জানানোর পর আমি বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি মিমাংসার উদ্দেশ্যে সন্ধ্যার সময় বাড়িতে যাই। এবং ঘটনাটি আমার মা থেকে পুনরায় শুনি। শুনার পর আমি তাদেরকে আসলে কি হয়েছে তাদের সাথে সেটা শুনতে তাদের ঘরের সামনে পাকা রাস্তার উপরে যাই এবং হৃদয় পরিবারকে ডাকি। তারা আমাদের দেখে মারমুখী হয়ে গায়ের তেড়ে আসে। এক পর্যায়ে তাদের ঘরের ভিতর থেকে লাঠি-শোঠা ও বিভিন্ন ধরনের রড নিয়ে এগিয়ে আমাদের মারার জন্য। ঘটনার পর তারা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলছে, তাদের ঘর কোপানো হয়েছে। এ ধরনের কোন ঘটনাই ঘটেনি, হাতাহাতি ও ঘটনা পুরোটাই পাকা রাস্তার উপরে হয়েছে। তারা আরো বলেছে- মাক্স পরা ৪/৫ জন লোক ছিলো, কিন্তু তাদের বক্তব্যের মধ্যে আপনার অনেক গড়মিল খুঁজে পাবেন। তারা আরো বলছে যে আমরা নাকি তাদের সম্পদ দখল করার জন্য এ কাজটি করেছি, কিন্তু তারা আসল ঘটনাকে আড়াল করতে বানোয়াট ও উদ্ভট বিষয় উপস্থাপন করেছে। তারা আরো উল্লেখ করেছে যে, আমাদের কোটি কোটি টাকা যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমাদের চরিত্র হননের উদ্দেশ্যে তারা এমন আচরণ করছে। স্থানীয় লোকজন যারা ছিলো তাদেরকে জিজ্ঞেস করলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রি ও নিজেরা সেবন করে আসছে।
আনোয়ার হোসেন আরো জানান, বিজলীর পরকিয়া প্রেমিক হৃদয়ের পিতা ফারুকের পরিবারের তারা তিন ভাই। বড় জন ফারুক সে নিজেও খাঁজাগোর ও ইয়াবা সেবনকারী, তার ২য় ভাই মো: দুলাল সে অতিমাত্রায় গাঁজা সেবন গাঁজার বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়, ৩য় জন সেও অতি মাত্রায় গাঁজা সেবনের ফলে পাগল। এবং গাঁজা বাবা, ছেলে, নাতি তারা একসাথে বসে ঘরের মধ্যে আসর মিলিয়ে সেবন করে। এলাকার প্রত্যেকটি লোক তাদের এ আচরণে অতিষ্ট । নিজ লোকজন না পারে বাড়িতে থাকতে, না পারে এলাকায় থাকতে। ফারুকের বাবা-শফি ও মা ফাতেমা এরা জাতীয়ভাবে পেশায় চোর। অন্যের ঘর চুরি করা এদের পেশা। আজ থেকে প্রায় ৩০ বছর পূর্বে নিজ বাড়িতে প্রবাসী শহীদ উল্যাহ, পিতা ক্বারী আবু তাহের এর ঘর চুরি দায়ে দীর্ঘদিন এলাকা ছাড়া হয়ে চট্টগ্রাম বস্তিতে বসবাস করতে। পুনরায় বাড়ির সবার পায়ে ধরে মাফ চেয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। এর পর থেকে তারা দীর্ঘদিন বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত। বিষয়টি আপনারা বাড়িতে এবং এলাকায় গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করলে সম্পূর্ণ রূপে জানতে পারবেন। তাছাড়া ওদের সাথে কথা বললে এবং চেহারার দিকে তাকালে দেখবেন কি পরিমাণ তারা খাজা সেবনকারী।
আনোয়ার হোসেন জানান, আমরা মারামারি করার ইচ্ছা থাকলে ঘটনার সূত্রপাত থেকেই আমরা তাদের শাসন করতে পারতাম। কিন্তু ওদেরকে বিগত ৩ মাস ধরে বার বার লোক মারফত ও আমরা নিজেরা সাবধান করার চেষ্ট করে আসছি। চলমান ঘটনাগুলো থেকে বিরত থাকার জন্য কিন্তু তারা বার বার আমাদের গায়ে পড়ে ঝগড়া ফ্যাসাদ করার জন্য তৈরি থাকে। এবং সব সময় মারপিঠ করার জন্য দেশীয় অস্ত্র মজুদ রাখে । তারা দুষ্ট প্রকৃতির হওয়ার কারণে মানুষ তাদের সাথে দূরত্ব বজায় রাখে। কিন্তু বর্তমানে তাদের কর্মকান্ডে অতিষ্ট এলাকাবাসী এমন ন্যাক্কার জনক ঘটনা প্রতিরোধ করার জন্য একমত পোষণ করছে। এদের এমন দাম্ভিকতাপূর্ণ আচরণ ও মাদক নির্মূল করা এখন সময়ের দাবী। আমরা দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমাদের সাথে যে ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে আমার এলাকার মানুষের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি। সেই সাথে সরকারের কাছে আকুল আবেদন, একজন রেমিটেন্স যোদ্ধার বউ বাগিয়ে নিয়ে আমাদের হেনস্তা করার দায়ে তাদের বিচার ও শাস্তি দাবী করছি। আর কোন রেমিটেন্স যোদ্ধা দেশের জন্য রেমিট্যান্স আনতে গিয়ে যেন নিজের বউ না হারায় এবং পরিবার হেনস্তার শিকার না হয়।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রবাসীর স্ত্রীসহ অভিযুক্তরা কেউ সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হয়।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি লিটন দেওয়ান জানান, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।