শিরোনাম :
নোয়াখালীতে ১৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ওয়াকওয়ে সড়কের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন শেখ হাসিনা ১৭ বছর অনেক চেষ্টা করেও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কোন দুর্নীতি বের করতে পারেনি -বরকত উল্যাহ বুলু চৌদ্দগ্রামের দুর্নীতিবাজ সেই পিআইও’ বহাল তবিয়তে নোয়াখালীতে নতুন গ্যাস কূপের খনন শুরু ডা: মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবী প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রমের উদ্বোধন নোয়াখালীতে বসতবাড়ীতে সন্ত্রাসী হামলা ও ভাংচুর নোয়াখালীতে জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সামাজিক নিরীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন বিষয়ক মতবিনিময় সভা নোয়াখালীতে দুর্ধর্ষ চুরি, স্বর্নালংকার ও মালামাল লুট অপপ্রচার ও হুমকির প্রতিবাদে চাটখিলে সাংবাদিকদের মানববন্ধন ছোট ভাইকে নামাজরত কুপিয়ে হত্যা করে আত্মগোপন, নোয়াখালীর তাবলীগ জামাত থেকে বড় ভাই গ্রেফতার

চৌদ্দগ্রামের দুর্নীতিবাজ সেই পিআইও’ বহাল তবিয়তে

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬
  • 53 পাঠক

মো. আরিফুর রহমান মজুমদার, কুমিল্লা থেকে:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) দুর্নীতিবাজ আবুল কালাম এখনো তার কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে আছেন। দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রচারের পরও রহস্য জনক কারণে নেয়া হয়নি কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। এমতাবস্হায় স্থানীয়রা বলছেন দুর্নীতিবাজ এ কর্মকর্তার খুঁটির জোর আসলে কোথায়। অনুসন্ধান কালে সূত্রগুলো জানায়, চৌদ্দগ্রামে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ লুট করার অভিযোগ এ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আবুল কালাম আজাদ এর বিরুদ্ধে। উন্নয়ন বরাদ্দে কমিশন আদায়, নিজস্ব লোক দিয় কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা,পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণের নামে উৎকোচ আদায়,টিআর,কাবিখা,কাবিটা,কমিশন বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে প্রচার প্রচারণায় আছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।সূত্র জানায়, তার সকল কাজে সহযোগিতা করছে উর্ধ্বতন কয়েক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার। জানা গেছে, চৌদ্দগ্রামে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগ থেকে বরাদ্দ প্রকল্পের সংখ্যা ছিল ৬৬টি। তার মধ্যে টিআর বাবদ ২ কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার ৯৭৪ টাকা ও কাবিটা বাবদ ২ কোটি ৯১ লাখ ৬১ হাজার ৬৬১ টাকা, খাদ্যশস্য গম বা চাল প্রথম পর্যায়ে ২২০ টন ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ১২৬ টন। যার মূল্য ১৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। তার মধ্যে উপজেলা কমিটির ২০ শতাংশ রিজার্ভে থাকা পাঁচটি প্রকল্প বাবদ ১৯ লাখ ৩১ হাজার ৮৫৫ টাকার নামমাত্র কাজ দেখিয়ে লুট করা হয়েছে বিশাল অংক। তাছাড়া টিআর কাবিখা-কাবিটার বেশির ভাগ প্রকল্প থেকে তিনি কমিশন আদায় করছেন। এতে কাজের গুণগত মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। পিআইও মো: আবুল কালাম আজাদ নিজেকে অত্যন্ত ক্ষমতাধর দাবি করে দেদারছে অনিয়ম ও দুর্নীতি করছে। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের প্রশ্রয় থাকায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে উল্টো নাজেহাল হচ্ছে ভুক্তভোগীরা। উপজেলার বেশির ভাগ স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি আওয়ামী লীগের সমর্থক হওয়ায় এসব বিষয় নিয়ে কেউ অভিযোগ করতে রাজি হচ্ছেনা। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, প্রকল্পের ক্রমিক নং-৫ অনুযায়ী উপজেলা সদরে আনসার ক্যাম্পের পেছনের পুকুর সংস্কার ও পাড় রক্ষাকরণ উন্নয়ন বাবদ ৩ লাখ টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সেখানে নামমাত্র ২০-৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে পুকুরের কচুরিপানা পরিষ্কার করা হয়েছে। প্রকল্প নং-৬ বিয়াম স্কুলের সম্মুখভাগে জলাবদ্ধতা নিরসনে নালা নির্মাণ, মাটি ভরাট ও উন্নয়ন বাবদ ৬ লাখ টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ২ থেকে ৩ লাখ টাকার নালা নির্মাণ করা হলেও নতুন করে কোনো মাটি ভরাট করা হয়নি। প্রকল্প নং-৭ মডেল মসজিদের পেছনে জলাবদ্ধতা নিরসনে নালা নির্মাণ বাবদ ২ লাখ টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ১ লাখ টাকার কাজও হয়নি। প্রকল্প নং-৮৯ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা সেবাকেন্দ্রের নির্মাণ ও সম্মুখভাগে বৃক্ষরোপণ বাবদ ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেখানে পুরো উপজেলা চত্বর মিলিয়ে ৫০ হাজার টাকায় বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। প্রকল্প নং-৯০ উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ৩ লাখ ৯১ হাজার ৮৫৫ টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরটি ঘুরে দেখা গেছে শখের কিছু ফুলের টপ, কয়েকটি ল্যাপটপ ও দুটি কক্ষের বাইরে রং করা হয়েছে। যেখানে সবমিলিয়ে ২ লাখ টাকারও কম ব্যয় হওয়ার কথা। সূত্র জানায়, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যবহারের জন্য ৯৫টি সরকারি স্ট্যাম্পের, যার মূল্য ৯৫ গুণন ৩১৫ মোট ২৯ হাজার ৯২৫ টাকা। অথচ সেসব স্ট্যাম্প পিআইও অফিস থেকে বিক্রি করা হয়েছে ৯৫ গুপন ৬০০ মোট ৫৭ হাজার টাকা। তিনি নিজে প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন না করে উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আল-আমিনকে দিয়ে পরিদর্শন করিয়ে থাকেন। তার সঙ্গে মাস্টাররোলে নিয়োগপ্রাপ্ত জাহিদ হাসান, অফিস সহায়ক মো. আলাউদ্দিন সহযোগিতা করে থাকে। তারা পিআইও আবুল কালাম আজাদের টার্গেট পূরণ করতে না পারলে সেবাগ্রহীতাদের কথা বলার সুযোগ থাকে না। অনেক সময় সাংবাদিকরাও তার কাছে হেনস্তার শিকার হতে হয়। তবে পিআইও আবুল কালাম আজাদ এসবকে কখনোই তোয়াক্কা করেন না। প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের প্রশ্রয়ে তিনি সবকিছুতেই পার পেয়ে যাচ্ছেন।সম্প্রতি পিআইও অফিসকে বহিরাগত মুক্ত করার জন্য জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগ থেকে একটি চিঠি ইস্যু করা হয়েছিল। কিন্তু পিআইও আবুল কালাম আজাদ সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করেন। পিআইওর এসব অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে জেলা প্রশাসক এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগে একাধিক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ অস্বীকার করে পিআইও আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমার উপজেলায় সব প্রকল্পে কাজের স্বচ্ছতা রয়েছে। আমি কোনো ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই। এখানে কোনো কমিশন বাণিজ্য অথবা অন্য কোনো অনিয়ম নেই।এদিকে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগিসহ স্থানীয়দের দাবি, দুর্নীতি বাজ এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করলে দুর্নীতির আরো রহস্য সহজে বেরিয়ে আসবে। সব বিষয়ে জেলা প্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবেদ আলী বলেন, সঠিক ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়াও এর আগে তার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মধ্যমে শেয়ার করুন...

এ বিভাগের আরো খবর....