চরম নির্মমতার স্বাক্ষী নোয়াখালীর সৌদি প্রবাসীর পরিবার, একে একে দুই ভাইয়ের মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ
আপডেট সময় :
সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬
73 পাঠক
জাতীয় নিশান প্রতিবেদক:
মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে চরম নির্মমতার স্বাক্ষী হলো নোয়াখালীর সৌদি প্রবাসী হত দরিদ্র একটি পরিবার, প্রবাসেই একে একে দুই ভাইয়ের মৃত্যুতে নিহতদের পরিবার ও এলাকায় শোকের মাতম। সৌদি আরবের তায়েফ শহরে প্রবাসী নোয়াখালীর কামরুল হোসেনকে গুলি করে হত্যা করে সৌদি আরবের এক তরুণ। এই হত্যাকাণ্ডের পর হামলাকারী ওই তরুণও নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করে। এমন ঘটনায় চরম অনিশ্চতায় পড়েছে কামরুলের পরিবার।
সোমবার দুপুরে সরেজিমনি গিয়ে জানা যায়, বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের খোরশেদ আলমের নতুন বাড়ির খোরশেদ আলমের ছেলে কামরুল হোসেন জীবিকার তাগিদে তিন বছর পূর্বে ঋণ করে কামরুল প্রবাসে বাড়ি জামান। সেখানে তিনি একটি সুপার মার্কেটে কাজ করেন। ঘটনার সময় রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে তিনি ডিউটি শেষে স্ত্রীর সাথে কথা বলতে বলতে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় অস্ত্রধারী এক যুবক তাকে লক্ষ করে গুলি করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর হামলাকারী অস্ত্রধারী নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন। তাবে কি কারণে েএই হত্যাকান্ড ঘটেছে তা এখনো জানাতে পারেনি সেখানকার পুলিশ।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কামরুলের আকস্মিক মৃত্যুতে কামরুলের আকস্মিক মৃত্যুতে বাবা-মা, স্ত্রী হালিমা বেগম (২৫), দুই ছেলে ইয়াসিন (৫) ও ইয়ামিন (৩) এর ভবিষ্যৎ জীবন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। ভবিষ্যৎ জীবন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এমন নির্মমতায় তারা দিশেহারা। আত্মীয় স্বজন বাড়িতে ভিড করছে, তাদের সান্তনা দেয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। মাত্র দুই বছর আগে কামরুলের বড় ভাই আনোয়ার হোসেনও সৌদি আরবে অগ্নিকান্ডে কর্মস্থলেই মারা যান। তার লাশও দেশে আনা সম্ভব হয়নি।
নিহতের চাচাতো ভাই মোঃ সোলেমান রাসেল আরও জানান, অনেক দেনা করে কামরুল বিদেশে গিয়েছে। এখনো দেনা শোধ করতে পারেনি। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপর্জনক্ষম ব্যক্তি। তার লাশও দেশে আনার সমর্থ
পরিবারের নাই। তাই আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান. পররাষ্টমন্ত্রী, সৌদি দূতাবাসসহ সকলের নিকট আকুল আবেদন কামরুলের কফিনে বন্দী লাশটি যেন নিজ দেশের মাটিতে এনে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। একই সঙ্গে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকার ও বিত্তবানদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আবু নাসের চৌধুরী বলেন, কামরুলের বাবা পেশায় কৃষক। জীবিকার তাগিদে তিন বছর আগে সৌদি আরবে যান কামরুল। তার এমন মৃত্যু মেনে নেয়ার মতো নয়। তার মৃত্যুর মাধ্যেমে পরিবারটি নি:স্ব হয়ে গেছে। কামরুলের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকার প্রধান তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ঠদের প্রতি আবহান জানান তিনি।
কামরুল হত্যা কান্ডের সঠিক তদন্ত করে রহস্য উদঘাটন ও কামরুলের মতো আর কোন প্রবাসীর যেন এমন করুণ পরিণতি না হয়, সেদিকে দৃষ্টি দিবে উভয় দেশের সরকার, এমনটাই দাবি ভূক্তভোগি পরিবার ও এলাকাবাসীর।