শিরোনাম :
ঘরে ঘুমিয়ে থাকা মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ মিলল ধান খেতের পাশে নোয়াখালীতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ডাক্তারি পরামর্শ কেন্দ্রের উদ্বোধন শেখ হাসিনার পতন হয়েছে চাটুকার সাংবাদিক, হাইব্রীড আওয়ামীলীগ ও ব্যবসায়ীদের কারণে।-বরকত উল্যাহ বুলু এমপি   বেগমগঞ্জে মাদক বিরোধী সমাবেশ  নোয়াখালীতে অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্যে বন কর্মকর্তাকে বদলি হাতিয়ায় সেই স্কুলে ফের ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ্য নোয়াখালীতে ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত নোয়াখালীতে জমি নিয়ে বিরোধে আগ্নেয়াস্ত্রসহ হামলা: গ্রেপ্তার ৩ নোয়াখালীতে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের উপর বড় ভাইয়ের হামলা, মারধর সেনবাগে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৭৩ শিক্ষার্থীকে সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের সংবর্ধনা দুই মেধাবী শিক্ষার্থী পেলেন স্বর্ণপদক

নোয়াখালীতে পৃথক ঘটনায় কিশোর গ্যাং এর হামলায় ২ খুন, আতঙ্ক

  • আপডেট সময় : রবিবার, মে ৩১, ২০২৬
  • 372 পাঠক
জাতীয় নিশান প্রতিবেদক:
নোয়াখালীতে পৃথক ঘটনায় কিশোর গ্যাং এর হামলায় ২ জন খুন হয়েছেন,।  শনিবার (৩০ মে) রাতে জেলার সদর ও বেগমগঞ্জে এই খুনের ঘটনা ঘটে। এই দুটি ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক  বিরাজ করছে। জানা গেছে,
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় জুয়ার আসরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে কিশোর গ্যাং এর দুই পক্ষের ঝগড়া থামাতে গিয়ে মো. কামাল উদ্দিন (৫০) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, প্রতিপক্ষের হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন। তবে পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিকভাবে তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।  শনিবার  রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লচি সর্দার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কামাল উদ্দিন একই এলাকার লচি সর্দার বাড়ির মৃত মো. সোলেমানের ছেলে। তিনি গাছের ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামালের ছেলে তারেক ও ভাতিজা ফরহাদ পাশের মিনু আলী হাজী বাড়ির রনি ও শামুর সঙ্গে চলাফেরা করতেন। ঈদুল আজহার ছুটিতে তারা লচি সর্দার বাড়ির পেছনে জুয়ার আসর বসান। বিষয়টি জানাজানি হলে পাশের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে ফরহাদের বাকবিতণ্ডা হয়।
এর জের ধরে শনিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে লচি সর্দার বাড়িতে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে আবারও ঝগড়া শুরু হয়। এ সময় ঝগড়া থামাতে গেলে মিনু আলী হাজী বাড়ির ইমাম উদ্দিনের নেতৃত্বে কয়েকজন কামাল উদ্দিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ভাই ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. তোফায়েল বলেন, পাশের বাড়ির ইমাম উদ্দিনের নেতৃত্বে কয়েকজন আমাদের বাড়িতে এসে অতর্কিত হামলা চালায়। তখন আমি বাড়িতে ছিলাম না। আমার ভাই কামাল তাদের বাধা দিতে গেলে তার ওপর হামলা করা হয়। তবে কী কারণে তারা হামলা করেছে, তা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না।

এ বিষয়ে সুধারাম থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শ্রীরাম চন্দ্র ভট্রাচার্য বলেন, জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে নিহতের ভাতিজা ফরহাদকে মারধর করা হয়। পরে চাচা কামাল ঝগড়া থামাতে গেলে তিনি বেহুশ হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া
এদিকে  বেগমগঞ্জ উপজেলায় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সড়কে পথরোধ করে জোবায়ের হোসেন ওরফে রাকিব (২৩) নামে এক তরুণকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে কিশোর গ্যাং মামুন বাহিনীর সদস্যরা। শনিবার (৩০ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের পাকমুন্সিরহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রাকিব একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খানপুর গ্রামের ভোলা গাজী বাড়ির সৌদি প্রবাসী মো. হানিফের ছেলে।

জানা যায়, নিহত রাকিবের বাবা ও এক ভাই প্রবাসে থাকেন। রাকিব ঢাকা ও নোয়াখালীর বিভিন্ন শপিংমলে চাকরি করতেন। তিন-চার দিন আগে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাকিবের চাচাতো ভাইয়ের ছেলের সঙ্গে স্থানীয় এক দোকানদারের কথাকাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শনিবার রাতে পাকমুন্সিরহাট বাজারে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হয়। এ সময় এলাকার লোকজন রাকিবকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। পরে তিনি তার ছোট ভাই রিমনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে পাকমুন্সিরহাট বাজার এলাকার একটি অন্ধকার স্থানে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে হামলা চালায়। এ সময় ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তার ছোট ভাই রিমনকে পিটিয়ে আহত করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে রাকিবের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বেগমগঞ্জ থানার ওসি মো. শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন এবং হামলাকারীদের শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মধ্যমে শেয়ার করুন...

এ বিভাগের আরো খবর....