শিরোনাম :
জাল-জালিয়াতি মাধ্যমে নিয়োগ: নোয়াখালীতে ফ্যাসিষ্ট এর দোষর গ্রাম পুলিশ আবদুর রহিম এখনো বহাল তবিয়তে সৌদি আরবে গুলিতে নিহত কামরুল হোসেনের পরিবারকে দেখতে গেলেন আরএফবি’র ‍প্রেসিডেন্ট  বেগমগঞ্জে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, দুই শিক্ষক বরখাস্ত নোয়াখালীতে রোগী সেজে সোনার চেইন চুরি, এক্সরে করে পেটে শনাক্ত চরম নির্মমতার স্বাক্ষী নোয়াখালীর সৌদি প্রবাসীর পরিবার, একে একে দুই ভাইয়ের মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ অসহায় বাসু মিয়ার মুখে হাসি ফোটালো মানবতার হাসি ফাউন্ডেশন সমাজসেবী জাহাঙ্গীর আলম জনির মায়ের ইন্তেকাল বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসের একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও র্দূীতির অভিযোগ নোয়াখালীর হাতিয়ার হরণী ইউনিয়নের দক্ষিণ আদর্শ গ্রামে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রাম ডাক্তার হেলাল উদ্দিন আটক ২৫ বছরের অভিজ্ঞতায় স্বশিক্ষাভিত্তিক পদ্ধতি উদ্ভাবন, আলোচনায় নোয়াখালীর শিক্ষক শংকর হাওলাদার

জাল-জালিয়াতি মাধ্যমে নিয়োগ: নোয়াখালীতে ফ্যাসিষ্ট এর দোষর গ্রাম পুলিশ আবদুর রহিম এখনো বহাল তবিয়তে

  • আপডেট সময় : শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
  • 48 পাঠক

জাতীয় নিশান প্রতিবেদক: নোয়াখালীর সুবর্নচর উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে জালজালিয়তিরি মাধ্যমে সরকারী চাকরী করা, রাজনীতির মাধ্যমে মানুষকে হয়রানি, প্রতারণা, ক্ষমতার অপব্যহারসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা এ নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অবেদন করলেও কোন কাজ হচ্ছেনা। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতির কারণে এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন তিনি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আব্দুর রহিম, চকিদার গ্রাম পুলিশ হিসেবে নিয়োগ পান ১/২/২০১২ ইং সনে।  তথন বয়ষ ৩৪ বছর ১০ মাস।  অর্থাৎ ৪ বছর ১০ মাস বেশি। তার জাতীয় পরিচয় পত্রে জন্ম তারিখ  ০১/০৪/১৯৭৭ ইং।  তিনি তার বয়স ১০ বছর কমানোর জন্য নির্বাচন কমিশনে ২৩/১১/২০২০ সালে আবেদন করেন, যথাযথ কাগজ না পাওয়ায় নির্বাচন কমিশন ১৮/০৫/২০২২ ইং তারিখে আবেদন খারিজ করে দেন। আবদুর রহিমের   জন্ম সনদ – ০১/০৪/১৯৮৭ ইং দেখিয়ে  ১৮/১০/২০১৬ ইং তারিখে একটি জন্ম সনদ ইস্যু করেন।  আবার ০১/০৪/১৯৭৭ ইং জন্ম দাখিয়ে  ২১/০৫ /২০২১ ইং আরেকটি জন্ম সনদ ইস্যু করেন। তিনি জালিয়াতি করে ২ টি জন্ম সনদ বানান।  আবদুর রহিম  ২০/১১/২০১১ইং  তারিথে ৩০/১২/১৯৯৪ সালের  ৮ ম শ্রেণী পাস সনদ নেন।

আবার ০১;০৮/২০১১ইং  তারিখ ৩১/০৪/২০০১ ইং সালেও ৮ ম শ্রে ণী  পাস সনদ নেন। তিনি জালিয়াতি করে স্কুল থেকে ২ টি সনদ নেন।
আবদুর রহিম ২/৩/২০২৬ ইং  তারিখে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে খাইরুল আলম সেলিম চেয়ারম্যানের প্রত্যয়ন নেন। অখচ তিনি ২০০৮ সালের চেয়ারম্যান ছিলেন।
২০/৪/২০০৮ সালের খাইরুল আলম সেলিম চেয়ারম্যানের  আদেশে বলান্টিয়ার হিসেবে আব্দুর রহিমের নাম নেই।  এখানেও জালিয়াতি ধরা পড়ে।
বিগত ৭/১২/২০২৫ ইং আনসার ভিডিপির তদন্তে প্রমাণিত হয় আবদুর রহিমের চাকরিতে যোগদানের সময় বয়স ছিলো ৩৪ বছর ১০ মাস।  ২৯/০৩/২০২৬ ইং তারিখে আবুল বাশার চেয়ারম্যানের তদন্তেও ৩৪ বছর ১০ মাস প্রমাণিত হয়।
তাছাড়া আবদুর রহিম গ্রাম পুলিশের চাকরী করা কালে বিগত আওয়ামীলীগ সরবারের আমলে বিভিন্ন অজুহাতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।  তিনি সরাসরি একরামুল করিম চৌধুরী এমপির নির্বাচনী শোডাউনে অংশ গ্রহন করেন। তাছাড়া আবদুর রহিম চৌকিদার ৩ নং গুচ্ছগ্রাম জামে মসজিদের কবরস্থানের বালুর টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে তখন এলাকায় বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

এদিকে গ্রাম পুলিশ আবদুর রহিমের এসব জালজালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে ওই এলাকার মোহাম্মদ উল্লাহ ১৫/১০/২০২৫ ইং তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা প্রশাসক, বিভাগিয় কমিশনারসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন। এর পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ২৫/০১/২০২৫ ইং, ০৫/০৫/২০২৫ ইং, ০৩/০৬/২০২৬ ইং, বিভাগিয় কমিশনার কার্যালয় ০৭/০৫/ ২০২৬ ইং তারিখে পৃথক আদেশে আব্দুর রহিম চৌকিদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দেন। কিন্তু  সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করে গড়িমসি করেন। পরবর্তিতে উপর মহলের চাপের পেক্ষিতে উপজেলা  নির্বাহী অফিসার ০৭/০৭/২০২৬ ইং শুনানি করেন। অভিযোগকারী মোহাম্মদ উল্যাহ স্বাক্ষী প্রমাণসহ উকিলের মাধ্যমে জবাব প্রদান করেন। সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি। ফলে অভিযোগকারী ০২/০৮/২০২৬ ইং তারিখ  হাইকোট ডিমান্ড জাসটিস নোটিশ প্রদান করেন ইউএনও বরাবর।  এরপরও রহস্যজনক কারণে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকিব ওসমান এখনো পর্যন্ত  আব্দুর রহিম চৌকিদারের বিরুদ্ধে কোন প্রদক্ষেপ গ্রহন করেননি। ২০১১, ২০১৫ ও ২০১৬ ইং সালের বাংলাদেশ গেজেট অনুযায়ী নিয়োগের সময় ৩৪ বছর ১০ মাস হওয়ায়  আব্দুর রহিম চৌকিদারের নিয়োগ বাতিল, সরকারি অর্থ ফেরত ও জালিয়াতির জন্য সর্বোচ্চ শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী মোহাম্মদ উল্যাহ জানান, আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে গিয়ে পদে পদে হয়রানির শিকার হচ্ছি। অথচ সরকারের সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের উচিৎ ছিলো জালিয়াতি প্রমাণ হওয়ার সাথে সাথে ওই চকিদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা। তিনি পদে পদে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। বিগত সময়ে দলীয় প্রভাব দিয়ে মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। আমরা তার উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশ আবদুর রহিম সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি।

সুবর্নচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকিব ওসমান জানান, উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা একাধিক তদন্ত করেছি। তিনি যে এনআইডি দিয়ে চাকরী নিয়েছেন তা এখনো দৃশ্যমান আছে। বয়স বেশি অবস্থাতেই তার চাকরী হয়েছে সত্য। কিন্তু তখনকার ম্যানেজম্যান্ট তাকে কি ভাবে চাকরী দিয়েছে তা দেখার বিষয়। তবুও উর্ধতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আমরা সহসাই একটা সিদ্ধান্ত নিবো।

নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। এটা দেখার দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী অফিসারের। তাঁর সাথে কথা বলে আইনগত দিক পর্যালোচনা করে পরবর্তি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

সামাজিক যোগাযোগ মধ্যমে শেয়ার করুন...

এ বিভাগের আরো খবর....