
জাতীয় নিশান প্রতিবেদক:
নিয়মিত অফিস না করেই বেতন তুলছেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জহিরুল ইসলাম। তাঁর বিরুদ্ধে নানা অনিয়নের পাশাপাশি রয়েছে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ। এতে প্রকৃত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগিরা।
অভিযোগ জানা যায়, শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জহিরুল ইসলাম প্রায় সময় হাসপাতালে সরকারি নিয়মানুযায়ী ডিউটি না করে চৌমুহনীর পাবলিক হলে নিজের প্রাইভেট শিশু হাসপাতালে সময় কাটান। এছাড়াও তিনি সোনাইমুড়ীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রাইভেট হাসপাতালগুলো সরকারী অফিসের সময় চেম্বার করেন । সম্প্রতি সরকারি অফিস সময়ে সরেজমিন বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে তাঁকে অফিসে পাওয়া যায়নি। বেলা ১২ টা হয়ে গেলেও তিনি অফিসে আসেননি। এদিকে সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে অসুস্থ শিশু বাচ্চাদের নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা রোগির স্বজনরা পড়েছেন বিপাকে।
মীরওয়ারিশপুর থেকে অসুস্থ শিশুকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা স্বজন রহিম জানান, আমরা সেই সকাল ১০টা থেকে বাচ্চাকে নিয়ে বসে আছি, ডাক্তার সাহেব এখনো আসেননি। কখন আসবেন তাও কেউ ঠিক মতো বলতে পারছেননা। একই কথা জানালেন, একলাশপুর থেকে আসা শিশু রোগির স্বজন মেহেরাজ উদ্দিন, চৌমুহনীর করিমপুর থেকে আসা আবদুর রহমান, আমানতপুর থেকে আসা সেলিমসহ অনেকে। ডাক্তার না পেয়ে তারা ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, ডাক্তার আসলেও ঠিক মতো রোগি দেখেন না, তাড়াহুড়া করে দেখে আবার চলে যান। ডাক্তারের এমন অনিয়মের অবসান চান তারা।
তাছাড়াও শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জহিরুল ইসলাম প্রায় সময় নেশাগ্রস্ত থাকেন। শারীরিক সমস্যার কথা বলে তিনি নেশা গ্রহন করেন বলে সব মহলে স্বীকৃত। কিন্তু একজন ডাক্তার যদি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় চিকিৎসা দেন, তাহলে রোগিরা কেমন চিকিৎসা সেবা পান তা সহজেই অনুমেয়।
একাধিক অভিভাবক জানান, বিগত সময়ের চেয়ে হাসপাতালটিতে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা বেড়েছে, আগে স্বাস্থ্য সেবায় হাসপাতালটি ভালো ছিলো। এখন দিন দিন খারাপ হচ্ছে। তারা অভিযুক্ত শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জহিরুল ইসলামের হাসপাতাল থেকে অপসারণসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত ডাক্তার জহিরুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তবে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার হাসান খায়ের চৌধুরী জানান, ডাক্তার জহিরুল ইসলাম সাহেবের শারীরিক কিছু সমস্যা আছে। তাই উনি ঠিক সময়ে অফিসে আসতে পারেন না এটা সত্যি। কিন্তু একটু দেরি করে অফিসে আসলেও ডিউটি করে সবার শেষে যান। তার শারীরিক সমস্যা থাকলে তিনি কি ভাবে সরকারি ডাক্তার হিসেবে চাকরী করেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি সেক্রিফাইজ করছি। উপর মহলও বিষয়টি জানে।
এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ভূক্তভোগিরা জেলা প্রশাসক, জেলা সিভিল সার্জন, বেগমগঞ্জ উপাজেলা নির্বাহী অফিসারসহ প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।