
জাতীয় নিশান প্রতিবেদক: নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার আজিজপুর গ্রামের সেলিম মিয়ার বাড়ির মো: মানিকের পুত্র বিএনপির একনিষ্ঠ কর্মী বেলাল হোসেনের ভাই মোহাম্মদ হেলাল এর উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তারা হেলালকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার চেস্টা করে। এ ঘটনার পর থেকে বেলাল হোসেনের পরিবারে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গতকাল ১৫ আগষ্ট বিকালে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, বেলাল হোসেন দীর্ঘদিন থেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। বিগত সময়ে আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অনিয়ম, দূর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, আইনশৃংখলার অবনিত, সাধারণ মানুষের উপর জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তিনি আওয়ামীলীগের ক্যাডারদের রোষানলে পড়েন। তাদের হামলা, অত্যাচার নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে বেলাল হোসেন বর্তমানে এলাকা ছাড়া থাকলেও তার পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা, হুমকি, নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। গত ৫ আগষ্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পরেও এলাকায় কিশোর গ্যাং এর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তারা আওয়ামী লীগ ক্যাডারদের নির্দেশে বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর ও তাদের বাড়ি ঘরে হামলা করছে। এসব হামলার সাথে জামায়াত-শিবির ও এনসিপি জোটের সমর্থন রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি জামায়াত-শিবির ও এনসিপির সদস্যরা পুলিশের উপর হামলা করছে।
এরি ধারবাহিকতায় শেখ মুজিবের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে গতকাল ১৫ই আগস্ট বিকালে আজিজপুর এলাকায় আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। মিছিলে কিশোর গ্যাং এর সদস্যরাও ছিলো। বেলাল হোসেনের ভাই হেলাল বাজারে যাওয়ার সময় মিছিল থেকে তার উপর হামলা করা হয় । তারা জয়বাংলা বলে শ্লোগান দেয় এবং বলতে থাকে যে, “তোর ভাইকে হত্যা না করা পর্যন্ত আমরা তোদের উপর হামলা চালাতে থাকবো এবং তোর ভাইয়ের পরিনাম আজ তোকেই ভোগ করতে হবে।” এই কথা বলেই তারা হত্যার উদ্দেশ্যে বেলাল হোসেনের ভাই হেলাল কে নির্মম ভাবে মারধন করে। তার চীৎকার, হামলাকারীদের শ্লোগান ও হৈচৈ শুনে পথচারী ও এলাকাবাসীরা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা মারা গেছে ভেবে হেলালকে রাস্তায় ফেলে চলে যায়। রক্তাক্ত, অচেতন ও মৃতপ্রায় অবস্থায় হেলালকে উদ্ধার করে স্থানীয় আরিফ হোসেন ও মোঃ আবু তাহের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে বিএনপির কর্মী বেলাল হোসেনের পরিবারের সদস্যরা ও এলাকাবাসী।