জাতীয় নিশান প্রতিবেদক: নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) তিন শিক্ষার্থীর উপর হামলার ঘটনায় ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের সোমবার(১৪ জুলাই) দুুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে রোববার রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার পৌর হাজীপুর গ্রামের ইদ্রিস ড্রাইভার বাড়ির রহমত উল্যাহর ছেলে মো. তারেক রহমান (২২), জামাল উদ্দিন লিটনের ছেলে মো. আহাদ হোসেন রিশাদ (২৩) এবং একই গ্রামের আবদুল বারিক মিয়া বাড়ির কামরুজ্জামানের ছেলে মো. ইউসুফ শামীম (২১)।
জানা গেছে, গত শনিবার (১২ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী অনিমেষ দেব নাথ ও তার দুই সহপাঠী সৌমেন বড়ুয়া, কাজী সাওদাজ জামান চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালীতে বিশ্ব বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ফেরার পথে চৌমুহনী পৌর হাজীপুর এলাকায় পুর্ব বাজারের আল বারাকা হাসপাতালের হামলার শিকার হন। হামলাকারীরাও বাসযাত্রী ছিলো। তারা বাস থামিয়ে শিক্ষার্থীদের মারধর করে জোরপূর্বক অপহরনের চেষ্টা করে। হামলাকারীরা শিক্ষার্থী অনিমেষ দেবনাথের কাছ থেকে নগদ ৬ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। স্থানীয়দের বাধার মুখে হামলকারীরা তাদের ফেলে পালিয়ে যায়। পরে শিক্ষার্থীরা ৯৯৯ এর কল করলে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে বেগমগঞ্জ উপজেলঅ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় নিয়ে আসে। রাতেই নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী অনিমেষ দেবনাথ বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা করে। মামলায় ৭-৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়। এদিকে, এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার (১৩ জুলাই) বিকেল ৪টা থেকে চৌমুহনী চৌরাস্তায় মানববন্ধনসহ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নামেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে ১২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে দুই ঘন্টা পর সড়ক ছাড়েন শিক্ষার্থীরা।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোহাম্মদ ইব্রাহীম হামলা ও গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা বাসের টিকেটে দেয়া ফোন নাম্বারের সূত্র ধরে মামলার ওই তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের সোমবার বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এএফএম আরিফুর রহমান বলেন, আমরা পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি সব সময় তারা শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে। বাকী আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকবে এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্যায়ভাবে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে সে বিষয়েও তারা সচেষ্ট থাকবে।
এদিকে সেনবাগ উপজেলার ৮নং বিজবাগ ইউনিয়নের ফকিরহাটে গত শনিবার (১২জুলাই) জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার জন্য বসা সালিশ বৈঠকে কথা কাটাকাটির জের ধরে হামলার ঘটনায় জড়িত মামলার প্রধান আসামী লোকমান হোসেনের ছেলে মোঃ আলা উদ্দিন (৫০)সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে সেনবাগ থানা পুলিশ। সোমবার ও রবিবার গভীর রাতে সেনবাগ থানা পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে। মোঃআলাউদ্দিন, পিতা- মৃত লোকমান হোসেন, মোঃ ফখরুল ইসলাম ইমন, পিতা ঃ ছালাউলিন মোঃ ইসলাম হোসেন প্রকাশ শুভ, পিতাঃ ইব্রাহিম খলিন বাদশা , টিপু সুলতান হায়দার (৩২) পিতা- মোস্তফা মানিক, অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে।
জানাগেছে আজিজুল হক গং ও আলা উদ্দিন গংদের মধ্যে দীর্ঘ ১৫/১৬ বছর যাবত জায়গা জমিন নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল এই নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। শনিবার বিকেলে ওই জায়গা-জমিন নিয়ে চলা বিরোধ মিমাংসার জন্য স্থানীয় ফকিরহাট বাজারের বাহার ষ্টিল নাম একটি দোকানে স্থানীয় বিজবাগ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বাকের হোসেন কোম্পানী, সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ ও সেনবাগ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা নুরুল আফসারের ঊপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক শুরুর এক পর্যায়ে বিবাদমান পক্ষ গুলোর তাদের কাগজপত্র উপস্থাপন শুরু করলে আলাউদ্দিন গংরা প্রতিপক্ষ আজিজুল হকের লোকজনের ওপর লোহার রড়, কিরিছ,লাঠি-সোটা নিয়ে হামলা করে ৫/৬জনকে এলোপাথাড়ী কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। ওই হামলার ঘটনাটি বাজারে সিসিটিভি ক্যামরায় ধারণ করা ফুটেজ ভাইরাল হয়। এরপর আজিজুল হক গংদের পক্ষে সেনবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং ৪ তারিখ ১৩/৭/২৫ এতে গ্রেফতারকৃত আলাউদ্দিনকে প্রধান আসামী করে ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে সেনবাগ থানার মামলা দায়ের করা হয়। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে আলাউদ্দিন সহ ৪জনকে গ্রেফতার করে।
সোমবার বিকেলে তাদেরকে নোয়াখালী বিচারিক আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্ঠা চলছে বলে জানান, সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মিজানুর রহমান।