শিরোনাম :
   নোয়াালীতে ইতালি প্রবাসীর বাড়িতে হামলা, মাকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা  ঘরে ঘুমিয়ে থাকা মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ মিলল ধান খেতের পাশে নোয়াখালীতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ডাক্তারি পরামর্শ কেন্দ্রের উদ্বোধন শেখ হাসিনার পতন হয়েছে চাটুকার সাংবাদিক, হাইব্রীড আওয়ামীলীগ ও ব্যবসায়ীদের কারণে।-বরকত উল্যাহ বুলু এমপি   বেগমগঞ্জে মাদক বিরোধী সমাবেশ  নোয়াখালীতে অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্যে বন কর্মকর্তাকে বদলি হাতিয়ায় সেই স্কুলে ফের ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ্য নোয়াখালীতে ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত নোয়াখালীতে জমি নিয়ে বিরোধে আগ্নেয়াস্ত্রসহ হামলা: গ্রেপ্তার ৩ নোয়াখালীতে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের উপর বড় ভাইয়ের হামলা, মারধর

ফেনীতে ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক

  • আপডেট সময় : সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
  • 657 পাঠক

জাতীয় নিশান ডেস্ক: ফেনীতে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার অভিযোগে রানু আক্তার (রুনা আক্তার নামেও পরিচিত) নামে এক গৃহবধূকে তালাক স্বামী। দুই সন্তানের জননী ওই নারী অভিযোগ করেন, তার স্বামী নূর মোহাম্মদ সুমনের নিষেধ অমান্য করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ায় তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে বিষয়টি প্রকাশ পায়। ফেনীর পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের পাগলীরকুল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, আইনজীবীর সহায়তায় আদালতের মাধ্যমে তালাক দিয়ে রোববার দুপুরে অজ্ঞাত স্থান থেকে মুঠোফোনে লোকজনকে বিষয়টি জানান নূর মোহাম্মদ সুমন। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, পারিবারিক মনোমালিন্যের কারণে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী রুনা আক্তার জানান, ভোটের আগের রাতে স্বামী তাকে জিজ্ঞেস করেন, কোথায় ভোট দেবেন। জবাবে তিনি বলেন, ছোটকাল থেকে দেখে আসছেন তার বাবা ধানের শীষে ভোট দেন, তিনিও ধানের শীষে ভোট দেবেন। এ কথা শোনার পর স্বামী তাকে ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করেন। পরে স্বামী বাড়ি থেকে চলে গেলে তিনি রাজষপুর আলী আজ্জম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দেন। রাতে বাড়ি ফিরে তিনি স্বামীকে বিষয়টি জানান। পরদিন ভোরে স্বামী ঘুম থেকে উঠে তাকে ও তাদের বড় ছেলেকে মারধর করেন এবং বাড়ি থেকে জমির কাগজপত্র ও দলিল নিয়ে বেরিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। প্রতিবেশীদের কাছে জানিয়েছেন, আদালতের মাধ্যমে তিনি স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন।

নূর মোহাম্মদ সুমনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পারিবারিক মনোমালিন্যের কারণে স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করা সম্ভব না হওয়ায় তাকে তালাক দিয়েছেন। ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কারণে তালাক দেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। তিনি আরও দাবি করেন, রুনা আক্তার ভোটার নন, তাই তিনি কীভাবে ভোট দিয়েছেন—এ প্রশ্ন তোলেন। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ফেনী নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে তালাক রেজিস্ট্রি করে ডাকযোগে তালাকনামা পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জানা যায়, ২০১৪ সালের ৭ নভেম্বর চিথলিয়া ইউনিয়নের নোয়াপুর গ্রামের নূর আহমেদের মেয়ে রুনা আক্তার মুন্নিকে বিয়ে করেন একই ইউনিয়নের পাগলীরকুল গ্রামের জসীম উদ্দিনের ছেলে নূর মোহাম্মদ সুমন। তাদের সংসারে মোবারক হোসেন মুরাদ (১০) ও মোহাম্মদ মোস্তাকিম হোসেন (৩) নামে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। রাজষপুর বাজারে ‘ভাই ভাই স্টোর’ নামে সুমনের একটি দোকান রয়েছে।

এদিকে প্রাপ্ত এফিডেভিটের কপিতে দেখা যায়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ফেনীর নোটারি পাবলিক কার্যালয়ের আইনজীবী রবিউল হক রবির স্বাক্ষরে নূর মোহাম্মদ সুমনের তালাকসংক্রান্ত এফিডেভিট ইস্যু করা হয়। তাকে শনাক্তকারী হিসেবে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী মীর মোশাররফ হোসেন মানিকের নাম উল্লেখ রয়েছে। এফিডেভিট নম্বর ১৭০। তালাকনামায় রুনা আক্তারের বিরুদ্ধে সংসারজীবন পালনে অক্ষমতা, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও অবাধ্যতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

নূর মোহাম্মদ সুমনের প্রতিবেশী কাউসার আলম বলেন, সুমন বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর রুনা আক্তার বিষয়টি তাকে জানান। তার দুই অবুঝ সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবা উচিত ছিল। অপর প্রতিবেশী কৃষক আবদুল কাদের বলেন, গত রোববার সুমন তাকে ফোন করে জানান, আদালত থেকে তালাকনামা পাঠানো হয়েছে এবং রুনাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলতে বলেন।

 

সামাজিক যোগাযোগ মধ্যমে শেয়ার করুন...

এ বিভাগের আরো খবর....