নোয়াখালীর পশ্চিমাঞ্চলের ত্রাস শীর্ষ সন্ত্রাসী সালাম বাহিনীর প্রধান ও হত্যাসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি মো. সালামকে (২৭) গ্রেফতার করেছে যৌথ বাহিনী। সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে রোববার রাতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজার থেকে র্যাব, পুলিশ ও ডিবির সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার গ্রেফতারের খবরে স্বস্তি ফিরেছে এলাকায়। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। সালাম বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের চাঁন্দার বাড়ির আবু ছায়েদের ছেলে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, সালাম হত্যা, অস্ত্রবাজি, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, অপহরণ, জোরপূর্বক জমির মাটি কেটে নেওয়া, নারী নির্যাতন, মাদক সেবন ও বিক্রিসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের হওয়া ৫ থেকে ৬টি মামলার পলাতক আসামি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বেগমগঞ্জের আলাইয়ারপুর, বাহাদুরপুর, মোশারকপুর, সুলতানপুর, নেয়াজপুর, সুজাতপুর ও হরিবল্লভপুর, রাজগঞ্জ, আমানউল্যাহপুর, ছয়ানী, সুধারাম উপজেলার দাদপুর, সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া, সোনাপুর, দেওটি, এমননি নোয়াখালীর সীমান্তবর্তী জেলা লক্ষীপুরের পূর্বাঞ্চলেরর বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলো। তার অত্যাচারে এসব এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিয়ে গোলাগুলি, বোমাবাজি করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিলেন সালাম। তার গ্রেপ্তারের পর এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর দাবি, সালাম এলাকার রুবেল (২৬), রায়হান (২৪), শরীফ (২০) ও সুমন (২৮)-সহ ১৫-২০ জনের একটি বাহিনী গঠন করে এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করছে। তার সহযোগিদেরও গ্রেপ্তার এবং তাদের কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা গেলে জনমনে আরও স্বস্তি ফিরে আসবে।
র্যাব-১১-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও কোম্পানি কমান্ডার মিঠুন কুমার কুণ্ডু বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি, সন্ত্রাসী বাহিনীর কথিত প্রধান মো. সালাম চন্দ্রগঞ্জ এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। তবে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি। তিনি হত্যাসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি