নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রুটে সিএনজি অটোরিক্সা ভাড়ায় নৈরাজ্য চলছে। সিএনজি চালকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে যাত্রীরা। গ্যাস সংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে সিএনজি অটোরিক্সা ড্রাইভার ও যাত্রীদের মধ্যে মারামারি, হাতাহাতি ও বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটছে।
জানা গেছে, নোয়াখালী জেলা শহর থেকে থেকে চৌমুহনী, সোনাপুর, কবিরহাট, সুবর্নচর, বাঁধের হাট, চৌমুহনী ও চৌরাস্তা থেকে সোনাইমুড়ী- চন্দ্রগঞ্জ, চৌমুহনী-ছাতারপাইয়া-সেবারহাট রুটে চলাচলের সিএনজি অটোরিকশাগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। কোনো প্রকার নির্ধারিত নীতিমালা না মেনে ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। ভূক্তভোগি যাত্রীরা জানান, ১০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ২০ টাকা, ২০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৩০ টাকা, ৩০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৪০ টাকা। বিভিন্ন রুটে দৈনন্দিন যাতায়াতে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রতিটি রুটে গ্যাস সংকটের কথা বলে অহেতুক বাড়তি ভাড়া আদায় করা হলেও বিষয়টি তদারকি করার যেন কেউ নেই!
একাধিক যাত্রী জানান, আমরা সিএনজি ড্রাইভারদের কাছে অনেকটা জিম্মি হয়ে গেছি। তারা যা ইচ্ছা তাই ভাড়া নিচ্ছে। কোন কথা বললে গ্যাস সংকটের কথা বলে উল্টো হয়রানি করে। ভদ্র যাত্রীরা কেউ সম্মানের ভয়ে কথা বলেনা।
চৌমুহনী থেকে জমিদার হাট রুটে যাতায়াত কারী নিয়মিত যাত্রী আহসান উল্যাহ জানান, চাকরী করার কারণে প্রতিদিন সকাল সন্ধা যাতায়াত করতে হয়। সিএনজি ড্রাইভারা নানা অজুহাতে আমাদের থেকে ২০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা আদায় করছে। গত ১ সপ্তাহ থেকে প্রতিদিন আমাকে বাড়তি ২০ টাকা ভাড়া গুনতে হচ্ছে। মাস থেকে অনেক টাকা যাতায়াত খবচ হয়ে যাবে। আমার তো বেতন বাড়বে না। তাহলে আমাদের উপর বাড়তি খরচের চাপ কেন দেয়া হচ্ছে। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ভূক্তভোগি যাত্রীরা কিলোমিটার ভিত্তিক ভাড়ার তালিকা নির্ধারণ এবং অসাধু চালক ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণেরও জোর দাবি জানিয়েছে।
এদিকে একাধিক সিএনজি অটোরিক্সার যাত্রী জানান, গ্যাস সংকটের কারণে আমরা ঘন্টার পর ঘন্ট সিএনজি স্টেশনে দাঁড়িয়ে থেকে গ্যাস নিতে হয়, রাত জাগতে হয়। আমাদেরও আয় কমে গেছে। তাই আমরা বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা নিতে হচ্ছে।
সোমবার সন্ধায় সাড়ে ৭ টায় এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, কোথাও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়দের অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমি উপাজেলা নির্বাহী অফিসারদের এখনি বলে দিচ্ছি।