জাতীয় নিশান প্রতিবেদক: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তবাগ এলাকায় এক ওমান প্রবাসীর নির্মাণাধীন ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কয়েকজনের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন প্রবাসীর স্ত্রী।
অভিযোগকারী ওমান প্রবাসী মোঃ বাবলুর স্ত্রী শারমিন আক্তার, তিনি লিখিত অভিযোগে জানান, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে গত ১৬ মে ২০২৬, শনিবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে তার নির্মাণাধীন ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে বসন্তবাগ পোদ্দার বাড়ির মৃত নুরুল হুদার ছেলে মোঃ ইসমাইল হোসেন, আলী আকবরের ছেলে সামছুল আলম সামছু, মোঃ সোহাগের ছেলে মাহিসহ আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি তার মালিকানাধীন ও ভোগদখলীয় জমিতে পুরাতন বসতঘর ভেঙে নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় বাধা প্রদান করে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে একাধিক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে দলিলপত্র যাচাই-বাছাই শেষে স্থানীয় চেয়ারম্যান বিষয়টির সমাধান করে দিলেও অভিযুক্তরা তা মেনে নেয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শারমিন আক্তার অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে তার নির্মাণাধীন ভবনে হামলা চালায়। এ সময় তাকে মারধর করা হয় এবং ভবনের ১২টি কলামের রড কেটে পেলে ও ভাঙচুর এবং আমাকে মারধর করে।
তিনি আরও জানান, তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। মামলা বা আইনি পদক্ষেপ নিলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে আহত অবস্থায় তিনি বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ চিকিৎসা নেন। হাসপাতালের চিকিৎসা নথি অনুযায়ী, তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৩২৫৮/০৭ এবং চিকিৎসার তারিখ ১৬ মে ২০২৬।
চিকিৎসা গ্রহণে ব্যস্ত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে থানায় যেতে না পারলেও পরবর্তীতে তিনি বেগমগঞ্জ মডেল থানা-এ সাধারণ ডায়েরি করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে বেগমগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সামসুজ্জামান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।