
জাতীয় নিশান প্রতিবেদক: নোয়াখালীতে মাদক ব্যবাসায় বাঁধা দেওয়ায় আরাফাত হোসেন ফাহিম হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে চৌমুহনীতে মহাসড়ক অবরোধ করে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্বজন ও এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার(১১ জুন) সন্ধায় নোয়াখালী-চট্টাগ্রাম মহাসড়কের চৌমুহনী কাচারী বাড়ি মসজিদের সামনে এই সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করে তারা। এ সময় সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
এ সময় স্বজনরা জানান, ফাহিম বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর গ্রামের শাহজাহানের ছেলে এবং স্থানীয় পৌর হাজীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ফাহিম। তারা নানার বাড়ি সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের দেবিসিংহপুর গ্রামে আঞ্জু মিয়াজী বাড়ি। ফাহিমের নানার বাড়ি আঞ্জু মিয়াজী বাড়ির উঠন ও চলাচলের পথ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন পর্যন্ত মাদক ব্যবসা করে আসছে পার্শ্ববর্তী হারুনসহ তার লোকজন। সন্ধ্যায় ফাহিমের নেতৃত্বে একদল যুবক হারুন ও তার লোকজনকে মাদক সেবন অবস্থায় ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। পরে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মাদক ব্যবসায়ী হারুন, মমিন ও জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে আঞ্জু মিয়াজী বাড়িতে অতর্কিতে হামলা চালায়। এক পর্যায়ে বাড়ির লোকজনও মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করে। এ সময় অন্ধকারে মাদক ব্যবসায়ীদের ছুরিকাঘাতে ফাহিম, শাকিব, রিফাত এবং মাদক ব্যবসায়ী হারুনসহ অন্তত পক্ষে ৫জন আহত হয়। এর মধ্যে ফাহিম, শাকিব ও রিফাতকে উদ্ধার করে দ্রুত ২৫০ শয্যা নোয়াখালী সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফাহিমকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ নিয়ে সেনবাগ ও চৌমুহনীতে আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্বজন ও এলাকাবাসী দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনিদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছে। অন্যথায় আগামীতে কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারি দেন তারা।
চৌমুহনী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন চন্দ্র ঘোষ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে যানজট নিরসনে কাজ করে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। ফাহিমের প্রধান খুনি হারুণ ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।